Close

পশুর চামড়া কিনতে ৬০১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংক

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে ৬০১ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় চার বাণিজ্যিক ব্যাংক। ৪২ প্রতিষ্ঠানকে এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। গত বছর ৪০ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ৫২৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল, সিটিসহ কয়েকটি ব্যাংক এ খাতে স্বল্প পরিসরে আগের মতোই ঋণ দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের নগদ টাকার চাহিদা ও ঋণ পরিশোধের রেকর্ড বিবেচনা করে প্রতি বছর ঈদুল আজহার আগে ব্যাংকগুলো ঋণ দেয়।

সংশ্নিষ্টরা জানান, চামড়ার বার্ষিক জোগানের বেশিরভাগ আসে কোরবানি ঈদের সময়। এ সময় চামড়ার সরবরাহ বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের টাকায় এত চামড়া একসঙ্গে কিনতে পারেন না। এ কারণে তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে স্বল্প সময়ের জন্য ঋণ নিয়ে থাকেন।

মানুষের মধ্যে কোরবানি করার সক্ষমতা বৃদ্ধি বিবেচনায় ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো। এক্ষেত্রে আগে যেসব প্রতিষ্ঠান ঋণ পেয়েছিল, তাদেরই আবার দেওয়া হচ্ছে। ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহক কোনো ব্যাংকের খেলাপি কি-না তা যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের আগের রেকর্ড ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা যাচাই করে নিজ পর্ষদে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকগুলো।

জানা গেছে, চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে চামড়া কিনতে এবারও সবচেয়ে বেশি ঋণ দিচ্ছে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটি এবার ৩২টি প্রতিষ্ঠানকে দিচ্ছে ২১০ কোটি টাকা। গত বছর এসব প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ২০১ কোটি টাকা। চামড়া খাতের প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদারকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে বিপদে আছে জনতা ব্যাংক।

অবশ্য ক্রিসেন্ট লেদার চামড়াজাত বিভিন্ন পণ্য রফতানির কথা বলে বিপুল অঙ্কের এ ঋণ নিয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চামড়া রফতানি না করে পাচার করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিদর্শনে উঠে এসেছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭৫ কোটি টাকা দিচ্ছে রূপালী ব্যাংক। রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, গত বছর চারটি প্রতিষ্ঠানকে ১৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এবার তিনটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে ১৭৫ কোটি টাকা। আগে ঋণ পেয়েছিল এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান পুনঃতফসিল সুবিধা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল-মাসুদ জানান, গত বছরের মতো এবারও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ভুলুয়া ট্যানারি, আমিন ট্যানারি ও কালাম ট্যানারি তাদের ঋণ পাচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস-উল ইসলাম বলেন, চামড়া কিনতে চারটি প্রতিষ্ঠানকে এবার ১৪৬ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। গত বছর দুই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ১২০ কোটি টাকা। ঋণ নিয়মিত থাকাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা এবার ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছেন।

Share on Facebook
নিউজটি 107 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o