Close

সিঙ্গাপুরের অন্যতম শীর্ষ ধনী আজিজ খান

ডেস্ক রিপোর্ট: সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আজিজ খান। প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস তাদের আগস্ট সংখ্যায় সিঙ্গাপুরের ৫০ শীর্ষ ধনীর যে তালিকা প্রকাশ করেছে, মুহাম্মদ আজিজ খানের অবস্থান সেখানে ৩৪ নম্বরে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বাংলাদেশী সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যানের মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৯১ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর র্যাংকিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের শেয়ারহোল্ডিংয়ের পাশাপাশি পরিবার, স্টক এক্সচেঞ্জ, বিশ্লেষক ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া আর্থিক উপাত্ত ব্যবহার করেছে ফোর্বস। পারিবারিক সম্পদও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তালিকায়। ২৩ জুনের বিনিময় হার ও একই দিনের শেয়ারদর (তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে সম্পদ হিসাব করতে) বিবেচনায় নিয়ে এ র্যাংকিং করা হয়েছে।

ফোর্বসের সর্বশেষ জরিপে উঠে আসা এ সম্পদের পুরোটাই বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সামিট গ্রুপের বিনিয়োগ বলে জানান মুহাম্মদ আজিজ খান। তিনি বলেন, ফোর্বস মূলত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সামিট গ্রুপের সব বিনিয়োগে তার পরিবারের অংশের বাজারমূল্য হিসাব করেছে। নিছক একটি হোল্ডিং কোম্পানির নিবন্ধন ছাড়া সিঙ্গাপুরে সামিট গ্রুপের কোনো বিনিয়োগ নেই। বরং বাংলাদেশে বিনিয়োগ আনার জন্যই সামিট গ্রুপ সেখানে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বন্দর ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোয় প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন উল্লেখ করে মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, ‘সামিট গ্রুপ শুরু থেকেই এসব খাতে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। বড় উদ্যোগে অর্থসংস্থানের পথটি মসৃণ করতে আমরা কয়েক বছর আগে সিঙ্গাপুরে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই) নামের একটি হোল্ডিং কোম্পানি করেছি। বাংলাদেশে সামিট গ্রুপের সব বিদ্যুৎ ব্যবসা এর অধীনে। বিশ্বের বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠান সেখানে আমাদের অংশীদার হিসেবে যোগ দিয়েছে। হোল্ডিং কোম্পানিটি সিঙ্গাপুরের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনী হিসেবে নাম আসা প্রসঙ্গে মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, ‘ব্যবসায়ী হিসেবে সেখানকার সরকার আমাকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (পিআর) দিয়েছে। আমি কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক।’

সামিট গ্রুপের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এ বছরের শুরুর দিকেই সিঙ্গাপুরের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সব রেগুলেটরি অনুমোদন পেয়েছে এসপিআই। বাজার মন্দা থাকায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) চাঁদাগ্রহণ পরিকল্পনা কিছুটা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি কিছুটা চাঙ্গা হলে প্রায় ২৬ কোটি ডলার মূলধন সংগ্রহের জন্য আইপিওর চাঁদাগ্রহণ শুরু করবে এসপিআই।

এদিকে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরের স্টক এক্সচেঞ্জে এসপিআইয়ের শেয়ারের বাজারমূল্য এর বর্তমান ভ্যালুয়েশনের চেয়ে বেশি হবে বলেই আশা করছেন বিনিয়োগসংশ্লিষ্টরা। এমনটি হলে ফোর্বসের এ তালিকায় আরো এগিয়ে যাবেন মুহাম্মদ আজিজ খান।

সাবেক সেনা কর্মকর্তার সন্তান মুহাম্মদ আজিজ খান তরুণ বয়সে নির্মাণ ও ট্রেডিং ব্যবসায় ক্যারিয়ার শুরু করলেও ধীরে ধীরে তিনি বিদ্যুৎ, বন্দর, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ান। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মুহাম্মদ আজিজ খানের বর্তমান বয়স ৬৩ বছর। তিনি তিন সন্তানের জনক।

১৯৯৭ সালে খুলনায় একটি বেসরকারি প্লান্ট নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবসায় আসা সামিট গ্রুপ বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ২১ শতাংশের বেশি জোগান দিচ্ছে তারা, যা সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট সক্ষমতার ৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন আকারের মোট ১৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট। গত মাসে এ সক্ষমতা ১ হাজার ৯৪১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

বিদ্যুতের বাইরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামোতেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সামিট গ্রুপ। ২০২২ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও এলএনজি খাতে আরো প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে গ্রুপটি।

বেসরকারি উদ্যোগে বন্দর ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়েও দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী সামিট গ্রুপ। অ্যালায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে তাদের যৌথ উদ্যোগ সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নৌবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট অবকাঠামোতেও সামিট দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (এসসিএল) তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে তাদের ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানি। ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) লাইসেন্সের আওতায় দেশব্যাপী অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক (ওএফসি) সম্প্রসারণের কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ওএফসি নেটওয়ার্ক স্থাপনের দায়িত্বও পেয়েছে তারা। এছাড়া কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের দুটি ব্লক উন্নয়নের কাজ পেয়েছে সামিটের প্রতিষ্ঠান সামিট টেকনোপলিস।

শিপিং, রিয়েল এস্টেট, এনবিএফআই, স্টক ব্রোকারেজসহ আরো কিছু ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে সামিট গ্রুপের। গ্রুপের বার্ষিক রাজস্ব ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে জানা গেছে।

বণিক বার্তা

Share on Facebook
নিউজটি 103 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o