Close

বিদেশি শক্তির মূল টার্গেট ছিল এ দেশে সমাজতন্ত্রের পথ চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়া

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা পরিকল্পনার অন্যতম অংশীদার বিদেশি শক্তির মূল টার্গেট ছিল এ দেশে সমাজতন্ত্রের পথ চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়া। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় সমাজতান্ত্রিক স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বিনির্মাণের নীতিমালা গ্রহণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের বিপ্লবী সরকার। মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২-এর সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র এই চার মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির রীতিনীতি অনুযায়ী স্বাধীনতাত্তোর সময়ে সব ভারী শিল্প-কল-কারখানা ও করপোরেশন জাতীয়করণ করা হয় এবং জমির ওপর সর্বোচ্চ ১শ’ বিঘা সিলিং নির্ধারণ করা হয়।

জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। ১৯৭৪ সালে এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত-এক ভাগ হোল শোষক আর এক ভাগ হলো শোষিত । আমার অবস্থা যদি চিলির আলেন্দের মতোও হয়-তাহলেও আমি শোষিত মানুষের পক্ষে আছি। সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের ছিল ঘনিষ্ট যোগাযোগ। এর কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের অভূতপূর্ব সাহায্য-সমর্থন ও সহযোগিতা।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্য ছিল অপরিসীম এবং বিপুল। বিশেষ করে পাক হানাদার বাহিনীর ডিনামাইটের জঞ্জাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরকে সেইফ করতে সোভিয়েত নৌ-বাহিনী সম্যক ভূমিকা গ্রহণ করে-যাতে তাদের একজন রিয়্যাল এডমিরাল শহীদ হন। এসব ছাড়াও ইসলামী সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দেশ আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারী বুমেদিন এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদ’ত-এর মতো নেতার ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যাদের আগ্রহে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরো নিবিড়তর করতে সচেষ্ট ছিলেন।

কৃষক, শ্রমিক মেহনতী মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল ব্যবস্থার সফলতা বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক সম্ভাবনার যে দ্বার উন্মোচন করতে যাচ্ছিল তা টের পেয়ে যায় আন্তর্জাতিক সা¤্রাজ্যবাদ ও তার এ দেশীয় দালাল বুর্জোয়া গোষ্ঠী। যাদের লুক্কায়িত প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগে ঘাঁপটি মেরে থাকা চরম প্রতিক্রিয়াশীল ও দক্ষিণপন্থি খন্দকার মোশতাক আর তার মোসাহেব ঠাকুর গংয়ের ওপর ভর করে সাজ্যবাদী ও বিদেশি শক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর চরম আঘাত হেনে দেশে সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের সব পথ অঙ্কুরেই ধ্বংস করে দেয়ার এই হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। স্তব্ধ করে দিতে উদ্যত হয় প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার মতো মানবতাবাদী চিন্তা-ভাবনাও।

যার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে বাংলাদেশ বেতারকে করা হয় রেডিও বাংলাদেশ। ধর্মনিপেক্ষতাকে তুলে দেয়া হয় সংবিধান থেকে। বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধের আশা-আকাক্সক্ষা আর স্বপ্নকে পেছনের দিকে ফিরিয়ে দেয়াই ছিল হত্যাকারীদের মূল টার্গেট।

Share on Facebook
নিউজটি 47 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o