Close

ঘরে বসেই মেলে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট!

মাত্র দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বেশি দিলেই ঘরে বসেই মিলে প্রাইভেটকারের ফিটনেস সার্টিফিকেট। আর দালাল ধরলেই লাইনে দাঁড়ানোর বালাই নেই মিরপুর বিআরটিএতে। এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি দিলেই সব কাজ হয় প্যাকেজে। দালালদের হাত থেকে রক্ষার জন্য বিআরটিএ অফিসের বিভিন্ন স্থানে লাগানো সচেতনতামূলক পোস্টারের নিচেই চলছে দালালদের কাজ।

গত কয়েক দিন ধরে সরেজমিন রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ অফিসে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। দুপুর ১২টা। ঘটনাস্থল মিরপুর বিআরটিএ। ওদিক-ওদিক ছুটছে সবাই। কেউ এসেছেন ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে কেউ বা আবার ট্যাক্স-টোকেন জমাদিতে। কেউ কেউ এসেছেন ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে। যে যার কাজে ব্যস্ত। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত কাউন্টারে দাড়িয়ে সবাই। এরই ফাঁকে শার্ট প্যান্ট ইন করা কিছু লোক জন চারদিকে ঘুরঘুর করছেন।

হাতে বিভিন্ন ধরনের কাগজ কর্মচাঞ্চল ওই মানুষগুলোকে দেখলে মনে হবে বিআরটিএর স্টাফ। কিন্তু আসলে তা নয়। ওরা কর্মকর্তা নয়। দালাল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোকে একে একে জিজ্ঞাসা করছে, স্যার কি কাজ? একটু দেখা যাবে? ও ফিটনেস? এতো অনেক সময় লাগবে লম্বা লাইন।

এতক্ষণ কষ্ট করে দাঁড়িয়ে থাকবেন? কমপক্ষে ২ ঘণ্টা লাগবে। আমাকে দেন করে দিই। মাত্র ২০ মিনিট লাগবে। এক হাজার টাকা বেশি দেবেন। লাইনে না দাড়িয়ে সহজে কম সময়ে কাজ করে নিতে দালালদেরই কাজ দিচ্ছে অনেকেই। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর বিআরটিএতে আসে জামিল আকন্দ। তিনি বলেন, নাম পরিবর্তনের জন্য এসেছি। অনেক জটিলতা। এর আগে কখনও এখানে আসিনি। লাইনও বেশ লম্বা। তাই বাধ্য হয়েই দালাল দিয়ে কাজ করাচ্ছি। তিনি বলেন, এখানে মানুষের চাপ বেশি সে তুলনায় সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে না। বিআরটিএর উচিৎ বুথ বাড়ানো।

শুধু তাই নয়, কিছু টাকা বেশি দিলে ৬ মাসের কাজ দেড় মাসে করে দেয় দালালরা। রাজধানীর ধানমি ২৭ এলাকা থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে এখানে আসেন আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সকাল থেকে অনেক বার এখানে ওখাসে ঘুড়েছি। কিন্তু তাতে খুব বেশি একটা ফয়দা হয়নি। কয়েকটা লাইনে দাঁড়িয়েছি। পরে বাধ্য হয়েই দালালকে দিয়েছি।

মিরপুর বিআরটিএতে কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে শুরু করে মূল দড়জা পর্যন্ত সবখানেই নজরে আসবে এমন ব্যক্তিদের। রায়হান নামে এক দালাল বলেন, বিআরটিএর যে কোনো কাজ চোখের পলকেই করে দেব। কোনো সমস্যা নেই। কাজ দিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন। আপনার কোনো কাগজপত্র হারাবে না। গ্যারান্টি। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি কাজে লোক বুঝে দর ঠিক করি। নির্ধারিত ফির থেকে ১৫’শ থেকে ২ হাজার টাকা বেশি নিয়ে থাকি। আবার কখনও কখনও তিন থেকে চার হাজার টাকাও আয় হয়।

সিজন নামের আরেক দালাল বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স এক দর ৯ হাজার টাকা পরবে। ৪৫ দিনের মধ্যে আপনার লাইসেন্স হাতে পাবেন। না হলে টাকা ফেরৎ। তিনি বলেন, ভেতরে বড় স্যারদের টাকাপয়সা দিয়ে কাজ করিয়ে ফেলব। আপনাকে কোনো টেমশন করতে হবে না। পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ সব দায়িত্ব আমার। আপনি শুধু এসে লাইসেন্স নিয়ে যাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য গাড়ি বিআরটিএতে আনতে হবে না। সার্টিফিকেট আপনার বাসায় পৌছে যাবে।

Share on Facebook
নিউজটি 45 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o