Close

ধনীর সম্পত্তি বাড়ছে, বাড়ছে না দরিদ্রের মজুরি

একজন বাংলাদেশি নারী শ্রমিক সারা জীবন পরিশ্রম করে যে আয় করেন, গার্মেন্ট (তৈরি পোশাক) খাতে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তা আয় করতে সময় নেন মাত্র চারদিন!

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর প্রতি দুদিনে একজন করে ধনকুবের হয়েছেন। আর আয়ের দিক থেকে নিচের দিকে থাকা মানুষের ৫০ শতাংশের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তনই আসেনি!

অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘প্রতিবেদনটি জানাল, কীভাবে আমাদের অর্থনীতি লাখো মানুষের কঠোর পরিশ্রমকে নয় বরং সম্পদকে পুরস্কৃত করছে।’

উইনি আরো বলেন, ‘ধনীদের শীর্ষস্থানীয় অল্প কয়েকজনের সম্পদ কেবলই বাড়ছে আর নিচের দিকে থাকা মানুষেরা ফাঁদে পড়েছে নিম্ন আয়ের।’  আয় বৈষম্যের জন্য করফাঁকিকেই দুষলেন তিনি।

‘রিওয়ার্ড ওয়ার্ক, নট ওয়েলথ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অক্সফাম। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বিশ্বের মোট সম্পদের ৮২ শতাংশের মালিক হয়েছেন আয়ের দিক থেকে শীর্ষে থাকা এক শতাংশ মানুষ। পাঁচ মার্কিন ডলারের চারটিই গেছে ওই এক শতাংশ মানুষের পকেটে।

হতদরিদ্র মানুষের কাছে যাচ্ছে না সম্পদ। আয় বৈষম্যের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না নারীরা।

৭৬ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনটিতে আছে ধনী-দরিদ্রের, নারী-পুরুষের আয় বৈষম্য নিয়ে তথ্য। প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, ১০টি দেশের ৭০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাবিশ্বে এখন ধনকুবেরের (বিলিয়নিয়র) সংখ্যা দুই হাজার ৪৩ জন। গত বছর ওই ধনকুবেরদের সম্পদ বেড়েছে ৭৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০০৬ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সাধারণ শ্রমিকদের আয় বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ। অন্যদিকে একইসময়ে ধনকুবেরদের সম্পদ বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

নারীরা একবছরে যে সেবা ও শ্রম দেয় তার একটি অংশের মূল্য ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন (১০ লাখ কোটি) ডলারের সমান। যা নারীরা কখনো পায় না। ধনকুবেরদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই পুরুষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধনকুবেরদের এক তৃতীয়াংশের সম্পদ এসেছে উত্তরাধিকারসূত্রে। পরবর্তী ২০ বছরে ৫০০ ধনকুবের নিজেদের উত্তরাধিকারের কাছে যে সম্পদ হস্তান্তর করবে তা ভারতের জিডিপির চেয়েও বেশি!

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে যুব সম্প্রদায়ের ৪৩ শতাংশই এখনো বেকার বা খুব নিম্ন আয়ের মধ্যে আছে। পাঁচ কোটি তরুণ-তরুণী দিনে যা আয় করে তা দুই মার্কিন ডলারেরও কম। এ মুহূর্তে দুই কোটি ৬০ লাখ তরুণ-তরুণী বসে আছে; তারা চাকরিতে, শিক্ষায় বা কোনো প্রশিক্ষণে নেই।

ওই প্রতিবেদনে আয় বৈষম্য নিয়ে দেওয়া উদাহরণে বলা হয়, ‘অঞ্জু বাংলাদেশের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। প্রায়ই ও দিনে ১২ ঘণ্টা করে কাজ করে, মধ্যরাত পর্যন্তও কাজ করে। ও প্রায়ই খায় না কারণ যথেষ্ট পরিমাণ আয় নেই। বছরে ৯০০ মার্কিন ডলারের মতো আয় করে ও।’

Share on Facebook
নিউজটি 23 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o