Close

মানেকার চেহারা বিয়ের আগে দেখেননি ইমরান খান

ডেস্ক রির্পোট: ইমরান খান তার সর্বশেষ স্ত্রী বুশরা মানেকার চেহারা বিয়ের আগে দেখেননি। বুশরাকে ইমরানের আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয় বিয়ে মানে রেহাম খানকে বিয়ে করাকে ইমরান তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলে মনে করেন। বিয়ে ও রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই দুনিয়াকে বারবার চমকে দিয়েছেন পাকিস্তানের এ খ্যাতিমান ক্রিকেটার। ইমরান প্রথম বিয়ে করেছিলেন ব্রিটিশ মেয়ে জেমিমা গোল্ডস্মিথকে। পরের বিয়ে বিবিসির আবহাওয়া সংবাদ উপস্থাপক রেহাম খানের সঙ্গে।

ইমরান খান এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। নয় বছর সংসার শেষে ইমরান ও ব্রিটিশ নাগরিক জেমিমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ২০০৪ সালে। পরবর্তী স্ত্রী রেহাম খানও ব্রিটিশ নাগরিক। রেহামের সঙ্গে ইমরানের সংসার টিকে ছিল মাত্র ১০ মাস।

ডেইলি মেইলের ডেভিড রোজকে দেয়া সাক্ষাত্কারে ইমরান তার ব্যক্তিগত জীবনের চমকপ্রদ অনেক তথ্য জানিয়েছেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইমরান বুশরাকে বিয়ে করেন এবং বিয়ের আগে তিনি একবারের জন্যও হবু স্ত্রীর চেহারা দেখেননি। বুশরাকে না দেখেই ইমরান তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিয়ের আগে ইমরান যতবার বুশরার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, ততবারই তার মুখ পর্দায় ঢাকা ছিল। ইমরান বলেছেন, ‘বুশরার চেহারা সম্পর্কে আমার যেটুকু ধারণা ছিল সেটা তার বাসায় রাখা পুরনো একটি ছবি থেকে।’

ইমরান জানান, বুশরা সুফিসাধক ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক; তাই তিনি স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষকে চেহারা দেখান না। ঘরের বাইরেও তিনি তেমন একটা বের হন না, হলে পর্দায় আবৃত হয়ে তারপর বের হন। বিয়ের পর বুশরার চেহারা দেখা প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘আমি বুশরার চেহারা দেখে হতাশ হইনি। তাকে বিয়ে করে আমি সুখী।’ উল্লেখ্য, বুশরার বয়স এখন ৩৯ আর ইমরান খানের ৬৫।

ইমরান ও বুশরার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল বছর তিনেক আগে। বুশরা তখন বিবাহিত এবং পাঁচ সন্তানের জননী। তার প্রথম স্বামীর নাম খাওয়ার ফরিদ মানেকা। ফরিদ পাকিস্তানের একজন সিনিয়র কাস্টমস কর্মকর্তা।

ডেভিড রোজ আশির দশকে তরুণ ইমরান খানের এক মন্তব্য পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সে সময় ক্রিকেট মাঠ আর লন্ডনের নাইটক্লাব— সবখানেই ছিল ইমরানের দাপট। সে সময় তিনি একবার রোজকে বলেছিলেন, ‘চেহারা না দেখে কাউকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করাটা আমার কাছে অকল্পনীয় মনে হয়। এ রকম যারা করে আমার মনে হয় তারা পাগল।’ ইমরান রোজকে দেয়া সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, অনেক বিষয়ের মতো সম্পর্কের বিষয়েও তার ধারণা সময়ের সঙ্গে বদলেছে। ‘আমি ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছি মানুষের শারীরিক সৌন্দর্যের চেয়ে তার চরিত্র, মন এবং জ্ঞান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার স্ত্রীর (বুশরা) চরিত্র ও পাণ্ডিত্যকে আমি সম্মানের চোখে দেখি।’

ডেভিড রোজ ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন ইসলামাবাদের বাইরে বানি গালায় তার বাড়িতে। সাধারণত নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইমরান প্রকাশ্য মন্তব্য না করলেও রোজকে সাক্ষাত্কার দিতে সম্মত হন। রেহাম খান কিছুদিন আগে প্রকাশিত এক বইয়ে ইমরান খানের বিস্তর সমালোচনা করেছেন। সে প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘সাধারণত আমি রেহামের বিষয়ে কিছু বলি না। কিন্তু আমি বলতে চাই যে, জীবনে আমি বেশকিছু ভুল করেছি এবং রেহামকে বিয়ে করাটা ছিল সবচেয়ে বড় ভুল।’ আর জেমিমা এখনো ইমরানের ভালো বন্ধু।

ইমরান বহু বছর ধরেই আফগানিস্তানে ব্রিটিশ ও আমেরিকান নীতির কট্টর সমালোচক। তার মতে, ইঙ্গ-মার্কিন আফগানিস্তানে নীতির কারণে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে। ‘নাইন-ইলেভেনের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। অথচ আমাদের ঝড়ের মধ্যে ফেলা হলো। জর্জ বুশের কথা আমার মনে আছে, ‘আমরা পাকিস্তানকে ছেড়ে দেব না।’ সন্ত্রাসী হামলায় ৭০ হাজার মানুষ হারিয়ে, আমাদের অর্থনীতির ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ক্ষতির পর এখন আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ আফগান নীতির জন্য বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। মনে হচ্ছে মাত্র কয়েক হাজার আফগান যারা পাকিস্তান থেকে কার্যক্রম চালায়, তাদের সঙ্গে দেড় লাখ ন্যাটো সেনা ও আড়াই লাখ আফগান সেনা লড়াই করে পারছে না।’

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আর্থিক সাহায্যের সবচেয়ে বড় গ্রহীতা পাকিস্তান, বছরে পাকিস্তান ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা পায়। ইমরান এই বিদেশী সাহায্য থেকে সরে আসতে চান। ‘আমরা ঋণে ডুবে আছি। আমাদের এখন সুশাসন ও রাজস্ব বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিদেশী সাহায্য হচ্ছে হেরোইন আসক্তির মতো।’

৪০ বছর আগে ইমরান খান প্লেবয় ছিলেন, সেটা আর আজ কেউ বিশ্বাস করেন না। সমালোচকরা বলেন, বুশরাকে বিয়ে করাটা ইমরানের রাজনৈতিক কৌশল। তবে ইমরান এ অভিযোগ একেবারে অস্বীকার করেছেন। তার কথায়, অধ্যাত্মবাদের আকর্ষণেই তিনি বুশরাকে বিয়ে করেছেন। ‘সুফিবাদে আমার আগ্রহ জন্মেছিল ৩০ বছর আগে। এ ঘটনায় আমার জীবন বদলে যায়। সুফিবাদে অনেক স্তর আছে। কিন্তু আমার স্ত্রীর মতো এত উচ্চস্তরের কাউকে আমি পাইনি। তার প্রতি আমার আগ্রহের শুরু সেখান থেকেই।’ পাকিস্তানে সুফিসাধক হিসেবে বুশরার খ্যাতি আছে। বুশরা সুফি কবি ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশাকরের মাজারে যাওয়া দর্শনার্থীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেন। ইমরানের সঙ্গে বিয়ের পর তারা মক্কাতেও গিয়েছেন।

বুশরার বোন ছিলেন ইমরানের রাজনৈতিক দলের সদস্য। ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশাকরের কবিতা ও শিক্ষা বুঝতেই ইমরান বুশরার বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। এর মাধ্যমেই তাদের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। ডেভিড রোজ বলছেন, সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সত্যিই অদ্বিতীয়।
সূত্র: ডেইলি মেইল

Share on Facebook
নিউজটি 69 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o