Close

মো. মাহমুদুন্নবী জ্যোতি’র দু’টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

 

For news 3ইংরেজি Sonnet কবিতার ধারণা তৈরি হয় মধ্যযুগে ইতালীতে। ষোড়শ শতাব্দীতে ধারণাটি বাস্তবে রূপ দেন স্যার ফিলিপ সিডনি ১৫৯১ সালে প্রকাশিত Astrophel and Stella গ্রন্থে। পরবর্তীতে উইলিয়াম শেকসপিয়ার, এডমন্ড স্পেন্সার, মাইকেল ড্রায়টন চতুর্দশপদী কবিতাকে নতুন রূপ দেন। ১৮৬৫ খ্রীষ্টাব্দে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে অবস্থানকালে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইতালির কবি পেত্রার্কের সনেট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথম বাংলা সনেটের দিগন্ত উন্মোচন করেন।

মাইকেল মধুসুদন দত্তের অসাধারণ রচনাশৈলীর সনেট কবিতাগুলো কালজয়ী হয়ে আছে। কিন্তু আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কাছে সনেট কবিতার প্রতি এক ধরণের ভীতি কাজ করে। তার কারণ, শব্দের ব্যবহার। তাঁদের মতে, সনেট কবিতা পড়তে বাংলা অভিনাধের সাহায্য ছাড়া নাকি সম্ভব না। অনেকে এর জন্য বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে দায়ি করে থাকেন। কিন্তু সহজ ও বোধগম্য শব্দের ব্যবহার করেও সনেট কবিতা লেখা যায়। যেখানে অষ্টক (Octave) এবং ষষ্টক (Sestet) বিদ্যমান রেখে ১৪টি চরণ এবং প্রতিটি চরণে ১৪টি করে অক্ষর থাকবে। বর্তমান প্রজন্মের সনেট ভীতি দূর করার উদ্দেশ্যে আমার এ প্রচেষ্টা। প্রকাশ করেছি পূর্ণাঙ্গ সনেট কবিতার বই “সীমান্ত ও প্রহরী”।

কবিতার বই প্রসঙ্গে কবি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের সনেট ভীতি দূর করার মানসে সনেট লেখায় অনুপ্রানিত হই। আমার বিশ্বাস, বর্তমান প্রজন্মের কাছে বইটি ভালো লাগবে। চতুর্দশপদী কবিতা সম্পর্কে জানতে পারবে খুব সহজে।

গল্পের বই প্রসঙ্গে লেখক বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনেই থাকে অসংখ্য গল্পের উপদান। এসব গল্পে যেমন থাকে হাসি, আনন্দ, প্রাপ্তি তেমনি থাকে দু:খ, বেদনা, অপ্রাপ্তি। সেই সাথে থাকে শিক্ষনীয় দিক, যা অন্যের জন্য হতে পারে অনুকরণীয়। এমন বিষয়বস্তুর গুচ্ছগল্প সম্ভার নিয়ে রচিত হয়েছে গল্পের বই “গল্প শুধু গল্প নয়”।

গতকাল ৯ই ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, বিকাল ৩.০০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে শহীদ মুনীর চৌধুরী সেমিনার কক্ষে বিশ্ব কলাকেন্দ্রের আয়োজনে বই দু’টির মোড়ক উন্মোচন করেন কবি আল মুজাহিদী। সভাপতি করেন কবি ফজল মাহমুদ। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ রেজাউর রহমান, কবি ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জামিউর রহমান লেমন, কবি ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার, কর্পোরেট সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জেসমিন আক্তার এফসিএস প্রমুখ।

আলোচকগণ বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে কবি ও লেখকদের পাশাপাশি পাঠকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, ভাল মানের বই পড়ুন, লেখকদের উৎসাহিত করুন। কারণ, পাঠকদের উৎসাহ লেখকদের প্রেরণা যোগায়।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে বিশ্ব কলাকেন্দ্রের শিল্পীদের অসাধারণ আবৃত্তি অনুষ্ঠান জুড়ে মুগ্ধতা ছড়ায়।

উল্লেখ্য, জনতা প্রকাশ বই দু’টি প্রকাশ করে। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৪২২, ৪২৩ ও ৪২৪ নম্বর ষ্টলে বই দু’টি পাওয়া যাচ্ছে।

Share on Facebook
নিউজটি 181 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o