Close

মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে এক বিস্ময়কর প্রতিভার নাম : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে এক বিস্ময়কর প্রতিভার নাম। তাঁর জন্য শুধু সাগরদাঁড়ি নয়, গোটা দেশ গর্বিত।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ির মধুমঞ্চে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা-২০১৮ এর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় যশোরের জেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করেছে।
উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির জন্মভিটা সাগরদাঁড়িতে আজ শনিবার থেকে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা শুরু হয়েছে এবং তা চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলার সমাপনী দিনে মধুসূদন পদক প্রদান প্রদান করা হবে।
মদুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ এবং ১৮৭৩ সালে ২৯ জুন কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।
মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সনেট রচনা করে বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার রুপ দিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, যে জাতি বরেণ্য ব্যক্তিদের সন্মান দিতে জানে না, সে জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারেনা। আর এজন্যই বর্তমান সরকার কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন করছে।
তিনি বলেন, মধুসূদনের স্মৃতিধন্য সাগরদাঁড়ির আধুনিকায়নের জন্য যা যা দরকার এ সরকার তা করবে। মধুসূদন দেশের জন্য যে সম্মান বয়ে এনেছেন, আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।
সাগরদাঁড়িতে জাকজঁমকপূর্ণ পরিবেশে মধু মেলা শুরু হয়েছে জানিয়ে মেলার আয়োজকরা বলেন, মেলা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী জেলা প্রশাসন, কেশবপুর উপজেলা প্রশাসন ও মধুসূদন একাডেমী সাগরদাঁড়িতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রত্যহ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মহাকবির জীবনী ও সাহিত্যের উপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা, আবৃত্তি, নাটক, জারি, বাউল,পালা গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া সার্কাস, যাদু প্রদর্শনী, ভ্যারাইটি শো, নাগরদোলা, কৃষি মেলা, বিসিকের ষ্টল, কুটির শিল্পসহ নানারকমের পণ্যের পসরা নিয়ে বাজার বসেছে। মেলায় বসেছে প্রায় দু’শ নান্দনিক স্টল।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, সাতদিনব্যাপী মধু মেলায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাবসহ শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। মেলা অশ্লীলতামুক্ত রাখতে মাঠের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। মধুমেলা উপলক্ষে সাগরদাঁড়ি সেজেছে বর্ণিল সাজে।
মাইকেল মদুসূদন দত্তের কালজয়ী রচনাবলীর অন্যতম হলো- মেঘনাদবধ কাব্য, শর্মিষ্ঠা, ক্যাপটিভ লেডী, কৃষ্ণকুমারী, বুড়ো শালিকের ঘাঁড়ে রোঁ, বীরাঙ্গনা। এই মহাকবির জন্মের কারণেই সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ নদ জগৎবিখ্যাত। কালের প্রবাহে কপোতাক্ষ নদের যৌবন বিলীন হলেও মাইকেলের কবিতার কপোতাক্ষ নদ যুগে যুগে বয়ে চলেছে।

Share on Facebook
নিউজটি 239 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o