Close

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি

শৈত্যপ্রবাহের জেরে দেশের উত্তরের শেষ জেলা পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে চলে এসেছে।

আজ সোমবার সকালে ঢাকা আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ সামছুদ্দীন আহমদ জানান, ভোরে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। এর পাশের জেলা দিনাজপুরে তাপমাত্রা বিরাজ করছে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকা আবহাওয়া কার্যালয় আরো জানিয়েছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় আজ ভোরে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এর পাশের উপজেলা ডিমলায় তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজধানীতে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড ভোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে আমাদের দিনাজপুর প্রতিনিধি ফারুক হোসেন জানান, প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমে আসবে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন।

আবহাওয়া কার্যালয় জানায়, এ মাসে আরো দুটি শৈত্যপ্রবাহ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে। ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে গরিব ও দরিদ্র মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে সকালে কাজে যেতে পারছেন না। কয়েক দিন থেকে কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতে কুয়াশার টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে।

সূর্যের মুখ দেখা গেলেও কনকনে বাতাস অব্যাহত রয়েছে। রাতের মতো দিনের বেলায় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।

বাতাসে ঠান্ডার তীব্রতা এতটাই বেশি যে খুব বেশি প্রযোজন ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হচ্ছেন না।

চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম জানান, সেখানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। এতে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে।

আজ আবহাওয়া অধিদপ্তর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই জেলায় এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই তাপমাত্রায় জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

আকস্মিক এই শীতের কারণে শীতার্ত মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই।

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এদিকে শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচল দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

আবহাওয়ার সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

আমাদের জয়পুরহাট প্রতিনিধি শাহজাহান সিরাজ মিঠু জানিয়েছেন, উত্তরে হিমালয় পর্বতমালার দিক থেকে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসে উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত জেলা জয়পুরহাটের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। শীতের কারণে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। সরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। দেখা গেছে, এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। এ অবস্থায় মাঠে-ঘাটে কাজ করা দিনমজুর ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। সরকারি ও কিছু কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে সীমিত আকারে কম্বল ও অন্যান্য শীতবস্ত্র দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।

সিলেট বিভাগের জেলা মৌলভীবাজার থেকে প্রতিনিধি এস এম উমেদ আলী জানান, ঘন কুয়াশা আর প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মূলত ২ জানুয়ারি রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই মৌলভীবাজারের তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। আবহাওয়ার এ অবস্থা আরো কয়েক দিন থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

স্থানীয়রা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে ঝরে পড়া ঘন কুয়াশায় তাতে খুব একটা উপকার হচ্ছে না। ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে গোটা মৌলভীবাজার। দিনের বেলায়ও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

শীতের এ তীব্রতায় গরম কাপড়ের অভাবে মানুষের অসহায়ত্ব বাড়ছে। সেইসঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ২০০ পিস কম্বল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আরো ১২ হাজার ৭৮৯ পিস কম্বল বরাদ্দ এসেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।

Share on Facebook
নিউজটি 118 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o