Close

ইন্টারনেটের চেয়ে থ্রিজি গ্রাহক বেড়েছে

প্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিপুলহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। গত বছর দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে এক কোটি ৫৪ লাখ। পাশাপাশি উন্নত মানের ইন্টারনেট সেবা গ্রহণে একই সময়ে থ্রিজিতে গ্রাহক বেড়েছে দুই কোটি ১১ লাখ। অর্থাৎ ইন্টারনেট গ্রাহকের চেয়ে থ্রিজি গ্রাহক বেড়েছে ৫৭ লাখ বেশি।

বিটিআরসির তথ্যমতে, ২০১৬ সালে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ৬৬ লাখ। আর ২০১৭ সালের শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় আট কোটি দুই লাখ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে এক কোটি ৫৪ লাখ। অন্যদিকে ২০১৬ সালে থ্রিজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৮৮ লাখ। বিপরীতে ২০১৭ সাল শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় চার কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে থ্রিজিতে গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে দুই কোটি ১১ লাখ।

এদিকে ২০১৬ সালে দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৬৬ লাখ। চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৩১ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে মোবাইল ফোন গ্রাহক বেড়েছে এক কোটি ৬৭ লাখ। এছাড়া ২০১৬ সালে টেলিডেনসিটি ছিল ৭৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ, যা ২০১৭ সাল শেষে ৮৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে টেলিডেনসিটি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৬ সালে ইন্টারনেট ডেনসিটি ৪১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪৯ দশমিক ৫১ শতাংশ। বছরের ব্যবধানে এ বৃদ্ধির হার আট দশমিক ১৫ শতাংশ। যেটি প্রযুক্তি খাতে দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রযুক্তিবিদরা জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে যার ফলে বিভিন্ন খাতের উন্নতি হচ্ছে দৃশ্যমানভাবে। এর পেছনে রয়েছে ব্যক্তির আগ্রহ, বেসরকারি খাতের উদ্যোগ এবং সরকারের প্রণোদনা। এ যৌথ প্রয়াসের ভিত্তিতে গত কয়েক বছরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত প্রসার ঘটেছে। যারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা পায়নি সেই সব নর-নারীও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠেছে। এখন গ্রামের কৃষক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

তারা আরও জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ভিত্তিতে উৎপাদন, কেনাবেচা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই প্রসার ঘটবে। ডিজিটাল প্রযুক্তিকে প্রধানত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করা হলে এর আরও গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে।

প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এটি প্রযুক্তি খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। দেশে আউটসোর্সিং বাড়ছে। ডিজিটাল খাতে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে। দেশে ই-কমার্স খাত দিন দিন প্রসারিত হলেও এখনও ই-কমার্সের নীতিমালা প্রতিষ্ঠা হয়নি। গ্রাহকদের সুরক্ষিত রাখতে হলে ই-কমার্সে আয় করতে হলে গ্রাহকদের সুরক্ষিত রাখতে হবে, ভালো সার্ভিস দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প-কারখানা, কৃষি খাত ও মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ২০২০ সালের দিকে ই-কমার্সের বাইরে কেউ থাকবে না। আমরা সরকারকে বলব যত দ্রুত সম্ভব ই-কমার্সের নীতিমালাটিকে সম্পূর্ণ করতে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আইসিটি শিক্ষা চালু করলেই হবে না, এর গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে সাধারণ জনগণকেও আইসিটিমুখী করে তোলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আবার গ্রাম ও শহর এবং বাংলাদেশ ও অন্যান্য বিকাশমান দেশের মধ্যে যাতে প্রযুক্তি বিষয়ে বিভক্তি বা পার্থক্য না থাকে এবং থাকলেও তা দূর করার দিকে নজর রাখতে হবে। অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি থাকতে হবে এবং এসব প্রকল্প বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন যাতে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকে সেটিও নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ট্রেন’কে দুর্বার গতিতে সামনের দিকে চালিয়ে নিতে দেশে নতুন প্রজন্ম অসংখ্য উদ্যমী তরুণ এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে এবং আরও অনেকেই তৈরি হচ্ছে। তাদের সফলতাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে।

Share on Facebook
নিউজটি 249 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o