Close

শ্রম আইন মানছে না গ্রামীণ টেলিকম

দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণ ফোনের দেশীয় অংশীদার গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে শ্রম আইন না মানার অভিযোগ উঠেছে। আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের স্থায়ী করেনি। কর্মচারীদের নিয়োগপত্র ও ছবিসহ পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও তা পালন করেনি। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে মুনাফার ৫ শতাংশ রাখার কথা থাকলেও তা রাখেনি। এ রকম অন্তত ১৩টি ক্ষেত্রে বিদ্যমান শ্রম আইনের লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে সম্প্রতি শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) পরিদর্শনে ধরা পড়েছে।
গত ২১ ডিসেম্বর ডিআইএফই’র পক্ষ থেকে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে এক সপ্তাহের (৭ কার্য দিবস) মধ্যে এসব ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করে তা ডিআইএফইকে জানাতে বলা হয়েছে। ডিআইএফই’র মহাপরিদর্শক শামসুজ্জামান ভুঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, অন্যথায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১৪ ডিসেম্বর ডিআইএফই’র একদল পরিদর্শক গ্রামীণ টেলিকমের অফিস পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে আইন লঙ্ঘনের এসব চিত্র ধরা পড়ে। এর আগে একই প্রতিষ্ঠানের ৪৭ জন কর্মী শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে মুনাফার ৫ শতাংশ অর্থ না রাখার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ড. ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসানসহ অন্য পরিচালকদের। মামলাটি এখন শুনানির অপেক্ষায় আছে। এদিকে ডিআইএফই সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া সাত দিন সময় শেষ হওয়ার পর ডিআইএফই’র পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে।
তবে এসব অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, অনিয়মের যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তার সবই আমরা নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী পরিপালন করি। হয়তো সেটি ডিআইএফই’র কাঠামো অনুযায়ী হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমাদের ব্যাখ্যা পাঠাবো।
ডিআইএফই সূত্র জানিয়েছে, গ্রামীণ টেলিকম বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য সার্ভিস বইয়ের ব্যবস্থা করেনি। প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না, শ্রমিক-কর্মচারীদের দৈনিক হাজিরা ও ওভারটাইম কাজের রেজিস্টার নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হয় না, রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না ছুটির রেজিস্টারও, আইন অনুযায়ী ছুটি নগদায়নের সুবিধা দেওয়া হয় না। কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী দুই দিন ছুটি প্রদান করা হলেও অফিস আদেশের মাধ্যমে সার্ভিস বিভাগে কর্মরতদের ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। এছাড়া গ্রামীণ টেলিকম ডিআইএফই’র নিবন্ধন লাইসেন্সও নেয়নি বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ এডভোকেট জাফরুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ডিআইএফই’র অভিযোগ অনুযায়ী, এগুলো শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। এক্ষেত্রে আইনে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণ ফোনের প্রায় ৩৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নিট মুনাফা করেছে ২১৫৯ কোটি টাকা।  ইত্তেফাক
Share on Facebook
নিউজটি 29 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o