Close

চ্যালেঞ্জের মুখে সাহারা খাতুন: স্থানীয় প্রতিনিধি চায় এলাকাবাসী

Uttara leaderমাসুদ পারভেজ: ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন মনোনয়ন প্রশ্নে এবার স্থানীয় নেতাদের শক্ত চ্যালেঞ্চের মুখে পড়তে পারেন। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে অন্তত ছয় জনের সঙ্গে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। মনোনয়ন প্রশ্নে ঢাকা-১৮ আসনে এমপি সাহারা খাতুনের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এলাকার স্থায়ী বসবাসকারী এবং দলের পরিক্ষিত নেতা। অপরদিকে এ নির্বাচনী এলাকায় সাহারা খাতুন বহিরাগত হিসেবে পরিচিত। সূত্র মতে, এলাকাবাসীও স্থানীয় প্রাতিনিধি চায়।

উত্তরা, খিলক্ষেত, হরিরামপুর ইউনিয়ন, উত্তরখান ইউনিয়ন, দক্ষিণখান ইউনিয়ন, ডুমনি ইউনিয়ন ও বিমানবন্দর এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৮ আসন গঠিত।দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা এডভোকেট সাহারা খাতুন ঢাকা-১৮ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য। সাহারা খাতুন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হলে তাকে অতি গুরুত্বপূর্ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির হত্যাকারিদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের বেফাঁস ঘোষণা দিয়ে সরকারের জন্য ব্রিবতকর অবস্থা সৃষ্টি করেন তিনি।

ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয়হীনতা,স্বল্প যোগাযোগ, নির্বাচনী এলাকার বাইরে বসবাস করা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালে এলাকার সাথে অধিকতর দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় ভোটের রাজনীতিতে সাহারা খাতুন অনেকখানি পিছিয়ে আছেন। তবে এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নতার অপবাদ দূর করার জন্য সম্প্রতি উত্তরার ৫নং সেক্টারের ৪নং রোডে স্থানীয় এক কর্মীর বাড়ির দোতলার একটি ফ্লাট তিনি বাসা কাম অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন। বয়স ও বার্ধক্যজনিত নানান রকমের অসুস্থতা নির্বাচনী রাজনীতিতে তাকে বেশ বৈরী পরিস্থিতে ফেলেছে। ফলে দলের নীতি নির্ধারক হিসেবে তার সক্ষমতা থাকলেও নির্বাচনের মাঠে তাকে আর ফিট মনে করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহনের বিষয়টি অনিবার্য হিসেবে ধরে নিয়ে সাহারা খাতুনকে কোনো ভাবেই এ আসনে চলনসই প্রতিদ্বন্দ্বী মানতে নারাজ দলের শীর্ষ নেতারা। এ অবস্থায় ঢাকা-১৮ আসনে এডভোকেট সাহারা খাতুনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কেরামত আলী দেওয়ান, হাবিব হাসান, এস এম তোফাজ্জেল হোসেন কামাল উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন ও বেলায়েত হোসেন মুকুলকে। এছাড়াও আরো কয়েকজন আছেন যারা ঢাকা-১৮ আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন।

ঘনিষ্ট সূত্রে জানা যায় ঢাকা-১৮ আসনের খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলী দেওয়ান মনোনয়ন প্রশ্নে এবার শক্ত অবস্থান নেবেন। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী দেওয়ান এর আগে বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের পরপর দুইবার সভপতির পদ লাভ করেন।বনেদী পরিবারের এই নেতা পারিবারিকভাবে প্রভাবশালী ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রশ্নে এবার অধিকতর দৃঢ় অবস্থানে আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হাবিব হাসান। বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ১০ বছর। দীর্ঘদীন বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করায় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ও যোগাযোগ তৈরী হওয়ার কারণে তিনি এখন তরুন সফল রাজনীতিবীদ হিসেবে জনমনে সমাদৃত। দিনদিন স্থানীয় জনমত ও জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে তার। বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে হাবিব হাসান উত্তরায় আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এ জন্য তিনি নানান ধরনের হয়রানীরও শিকার হয়েছে; বহুবার কারাভোগ করতে হয়েছে তাকে।

২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়ত জোট সরকারের সময় মামলা-হামলা ও কারা নির্যাতনের চরম শিকার হন হাবিব হাসান। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সরকারে সময় করাবন্দি দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির সংগ্রামে উত্তরায় একক নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর গ্রহণে তার উদ্যোগ বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। যা উত্তরাবাসী আজও মনে রেখেছে। বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রামে জেলে যাওয়া কর্মীদের আইনী সহায়তা প্রদান এবং পরিবারের ভরনপোষনের দায়িত্ব নেয়াসহ নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার কারণে তিনি এলাকায় কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। কেবল রাজনীতি নয়, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে কাছে পায় এলাকাবাসী। যে কারণে তার প্রতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষের বিশেষ সহানুভূতি রয়েছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সভা-সমাবেশে নিয়মিত যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক জনসংযোগ করছেন হাবিব হাসান-এমনটাই জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠজনরা। এছাড়া পারিবারিক ও আর্থিক দিক থেকে তিনি প্রভাবশালী এবং তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত সফল ব্যবসায়ী।

দক্ষিণখান আদর্শ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম তোফাজ্জেল হোসেন বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন যাবত। জনকল্যানে নিজেকে নিয়োজিত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে রাজনীতিতে পদার্পণ করেছেন বলে সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। আর্থিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে ইউনিয়নে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক বেশ শক্তিশালী।

উত্তরখান ইউনিয়নে একটানা তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া কামাল উদ্দিন গোটা ইউনিয়নে শক্ত অবস্থানে আছেন। দুইবার তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে। অপামর জনসাধারণের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার জন্য এবং অসহায় মানুষের দুঃখ দুর্দশা দূরীকরণের লক্ষ্যে তার রাজনীতিতে পর্দাপন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্টজনরা। কামাল উদ্দিন বর্তমানে উত্তরখান আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মনোনয়ন প্রত্যাশী নাজিম উদ্দিন প্রবীণ রাজনীতিক। তিনি তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। উত্তর খান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে আছেন নাজিম উদ্দিন আহম্মদ। তিনি ২০০৪ সালের ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে তিনি নিয়মিত কাজ করছেন।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সর্দার বেলায়েত হোসন মুকুল। আওয়ামী লীগের দুর্দিনের দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে নিঃস্বার্থ ভাবে জনগনের কল্যানে এবং দলের জন্য কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার বিশিষ্টজনরা। তিনি ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদ সদস্য রহমত উল্লাহর ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত। সর্দার বেলায়েত হোসন মুকুলের পক্ষে মনোনয়নের জন্য একটি শক্ত লবিং কাজ করছে বলে জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ।

মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রত্যেকের আশা, দলের মনোনয়ন পেয়ে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়া ও জনগনের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এই প্রত্যাশায় নিজনিজ অবস্থান থেকে মনোনয়নের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালালেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন সবাই। তাদের মতে দলের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দলের মনোনয়ন যেই পাক তার পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

Share on Facebook
নিউজটি 784 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o