Close

“ফালতু” সদস্য ব্যাংক কর্মকর্তার রক্তে জীবন বাঁচলো বোরহানের

মোহাম্মাদ বোরহান হোসেন। ৩০ বছরের এক তরতাজা যুবক পরিবারেরর একমাত্র উপার্জনকারী। গত বছর যশোরের মনিরামপুরে উপজেলার বাজারে এক দূর্ঘটনায় মারাত্বকভাবে আহত হন বোরহান হোসেন। ১০ দিন আগে তার অবস্থা অবনতি ঘটলে খুলনার একটি বেসরকারী গাজী মেডিকেলে ভর্তি করা হয় তাকে। কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানান, তার পায়ে অস্ত্রোপচার করতে হবে, না হলে পা কেটে ফেলতে হবে। অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে চিকিৎসকরা দেখেন বোরহান হোসেনের রক্তের গ্রুপ একেবারে বিরল। খুলনা বিভাগের কোনো ব্লাড ব্যাংকেই খোঁজ মেলেনি ওই গ্রুপের রক্তের। এই বিরল ব্লাড গ্রুপের নাম (অই-)। তাই বিভিন্ন মাধ্যমে এধরনের ব্লাড গ্রুপের খোঁজ শুরু করেন বোরহানের পরিবার।

খুঁজতে খুঁজতে তারা পৌছে যান মনিরামপুর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের “ফালতু” র কর্নধার দেব বিশ্বাসের কাছে। বিষয়টি জানতে পেরে ওই যুবককে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন “ফালতু” সংগঠনের সদস্য সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (মনিরামপুর শাখা) অফিসার ফিরোজ আহম্মেদ। “ফালতু”কে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বোরহানের পিতা গফফার আলী জানান, আমরা তো ওর (বোরহান) বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। ডাক্তাররা বলেছেন, তাকে সারিয়ে তুলতে অস্ত্রোপচার করতেই হবে! কিন্তু তাতে বাধ সাধে তার রক্ত। তিনি বলেন, গোটা-খুলনা বিভাগের ব্লাড ব্যাংক বাদ দিইনি। এ সময় আমার একমাত্র ছেলের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলো “ফালতু”।

এবিষয়ে “ফালতু” সংগঠনের সভাপতি দেব বিশ্বাস আমাদের এই প্রতিবেদক জানান, কাল রাতে আমাকে ফোন করে বলে, ভাই একটু দেখেন। আমি ফিরোজ স্যারকে বলি, ফিরোজ স্যার বলেন “ফালতু”রা থাকতে কেউও মরতে পারে না। আমি দেব।

এদিকে ফিরোজ আহম্মেদ জানান, জীবনে কাউকে এক ফোঁটা রক্ত দান করবো ভাবতে পারিনি। আজ এক ভাইর জীবন বাঁচাতে পেরে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগছে।

Share on Facebook
নিউজটি 319 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

16129961_1730814400566375_1235166755_o